প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
1702
১৪ মে ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা-এর রাষ্ট্রপতি জোয়াও লরেনকো-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মিয়া মো. মাইনুল কবির।
পরিচয়পত্র পেশের পর রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে অ্যাঙ্গোলার জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরেন। তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর সম্ভাবনা তুলে ধরে অ্যাঙ্গোলার বাজারে এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা উল্লেখ করে অ্যাঙ্গোলার ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
কৃষি খাতে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বাস্তবায়নে সহযোগিতা চান রাষ্ট্রদূত। এছাড়া জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে অ্যাঙ্গোলা থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলা এবং সরকার ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সরাসরি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
এ সময় তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি অ্যাঙ্গোলার সমর্থন কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি জোয়াও লরেনকো বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যাল, জ্বালানি ও কৃষিখাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, আলোচিত বিষয়গুলো তার সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে অ্যাঙ্গোলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেতে আন্তোনিও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মিয়া মো. মাইনুল কবির বর্তমানে নাইজেরিয়া-এ বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পাশাপাশি অ্যাঙ্গোলায় অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করছেন।