প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
1696
১৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
বাংলাদেশ-চীন যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক
রাজধানী শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বড় হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রসহ ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিকার বিষয়ে বলেন, দেশে আগামী ছয় মাসের জন্য পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে টিকা সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট হবে না। যক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকারও কোনো ঘাটতি নেই। স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট দূর করতে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং চীনের কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত, বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমঝোতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রতিফলন। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে। এই উদ্যোগ শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতাই নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জারির মান উন্নয়নের একটি যৌথ প্রচেষ্টা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ও চীন সবসময় পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীন দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ করে আসছে এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। এই নতুন উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, এই সমঝোতা দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর মাধ্যমে দেশের রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। প্রাথমিকভাবে ইউরোলজি সংক্রান্ত জটিল সার্জারি দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সব ধরনের জটিল অপারেশন চালু করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে চীনের সহযোগিতায় রোবোটিক ফিজিওথেরাপি পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে রোবোটিক সার্জারিসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হবে। এই সমঝোতার মাধ্যমে চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, শিক্ষক বিনিময়, গবেষণা এবং জ্ঞান আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চীনের কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।