প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ এএম
1695
১৫ মে ২০২৬, ০৩:২৫ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে নৈশভোজ অনুষ্ঠানের সময় গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীর কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল এবং তাকে সম্ভাব্য হত্যাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের কয়েকজন অত্যন্ত সাহসী সদস্য দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে ওয়াশিংটনের ওই হোটেলে সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত নৈশভোজ চলাকালে আকস্মিকভাবে গুলির শব্দ শোনা যায়। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডিও উপস্থিত ছিলেন।
গুলির শব্দ শোনামাত্র নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে ফিরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল বাকস্বাধীনতা এবং পারস্পরিক ঐক্যের উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। তবে যেখানে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, সেই ভবনটিকে তিনি খুব বেশি নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি মনে করছেন, ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
১৯৬৫ সালে চালু হওয়া এই হোটেলটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় প্রেসিডেন্ট জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার চেষ্টা চালান এবং তার কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করেন এবং পরে আটক করেন।
এ ঘটনায় একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানান প্রেসিডেন্ট। তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। কারণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, ওই কর্মকর্তা উন্নতমানের বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরিধান করেছিলেন, যা তাকে গুরুতর ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছে।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি একক কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পেনসিলভানিয়া ও ফ্লোরিডায় তার ওপর দুটি পৃথক হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রকৃতির ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।