প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
1702
১৪ মে ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিয়ে প্রচারিত তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অনেক তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই এবং তা নগরবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করায় সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে বিষয়টি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকারপ্রধানের এমন সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া বড় মনের পরিচায়ক। এতে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে আস্থা ও সন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি নিজে চট্টগ্রাম সফর করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত এক-দুই বছরের তুলনায় বর্তমানে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। অথচ সামাজিক মাধ্যমে ২০২৪ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যা তিনি ‘সম্পূর্ণ কাল্পনিক’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে মাত্র পাঁচটি স্থানে সাময়িক জলজট তৈরি হয়েছিল। তবে দ্রুত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোট ৫৭টি খালের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬টি খালের উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ৩০টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ছয়টি খালের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে, যেখানে অস্থায়ী বাঁধের কারণে কিছুটা পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটেছিল।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এসব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা কম।
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নগরীর এই দীর্ঘদিনের সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।