প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
1693
১৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান দিলেও বাস্তবে তারা “সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র” নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবার (২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-তে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক নীতির অভিযোগ
আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে দেশের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এলএনজি আমদানি, বিমান কেনা এবং অন্যান্য বড় প্রকল্পে বিদেশি প্রভাব বাড়ছে।
তার মতে, এসব সিদ্ধান্তে আগের অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার পর্যন্ত একই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় স্বার্থ ও চুক্তি নিয়ে সমালোচনা
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিকে “জাতীয় স্বার্থবিরোধী” বলে মন্তব্য করেন এবং এসব চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা বা শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।
আনু মুহাম্মদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও চুক্তিতে জবাবদিহি না থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো জনস্বার্থের পরিবর্তে বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে প্রভাবিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারের আমলেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।
তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় গেলে যা খুশি করা যায়”—এই মানসিকতা থেকে রাষ্ট্রকে বেরিয়ে আসতে হবে।
অতীত আন্দোলনের প্রসঙ্গ
আলোচনায় তিনি ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী কয়লাখনি আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনস্বার্থবিরোধী প্রকল্পের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত নীতি পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছিল।
মানবাধিকার ও বিচার প্রসঙ্গ
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, অতীত ও বর্তমান বিভিন্ন সময়ের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।