শুক্রবার ১৫, মে ২০২৬

১৫ মে ২০২৬, ০৩:১৩ এএম

 আমলাদের বিরুদ্ধে কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

1706

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, সরকারের অনেক আমলা বিভিন্ন কোম্পানির স্বার্থে কাজ করছেন এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন-এ এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনের ‘জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনেক আমলা সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোম্পানির পক্ষে কাজ করছেন। নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের সংশ্লিষ্ট খাত বা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

জ্বালানি খাতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এলএনজি, হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) বা ডিজেল সংশ্লিষ্ট খাতে কাজ করা কিছু আমলা সরকারের নীতিতে সেই খাতকে প্রাধান্য দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে দেখা যায়, অবসরের পর তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতেই চাকরিতে যোগ দেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রবণতা রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে, যা নীতিনির্ধারণে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও সরকার সেই পথ থেকে সরে এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে জ্বালানি সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোডশেডিং ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিল্পখাত ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য আনতে পারেনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে এবং তা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

Link copied!