প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
1698
১৫ মে ২০২৬, ০১:৩৫ এএম
পটুয়াখালী শহরে প্রতিবেশীর বসতঘরের স্টিলের দরজা কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২ মে) ফারুক হাওলাদার বাসায় অনুপস্থিত থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন ঝালাই কাটার মিস্ত্রি নিয়ে এসে তার ঘরের স্টিলের দরজা কেটে নিয়ে যায়। এ সময় ঘরে থাকা পরিবারের সদস্যদের আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘরে রাখা জমি বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে পটুয়াখালী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম লিটনকে কয়েকজনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়। সেখানে তাকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মিস্ত্রিকে নির্দেশনা দিতে এবং পরে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছু সময় পর তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং তার উপস্থিতিতেই দরজাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ফারুক হাওলাদার বলেন, “আমি বাসায় না থাকার সুযোগে তারা ঘরের দরজা কেটে নিয়ে গেছে। আমার মেয়েদের ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। এ সময় ঘরে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকাও নিয়ে গেছে তারা। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জহিরুল ইসলাম লিটন। তিনি দাবি করেন, তার চাচার সঙ্গে জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তবে দরজা কেটে নেওয়ার ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মোহন বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি জানা নেই। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধ বলে মনে হচ্ছে। তবে দরজা কেটে নেওয়ার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয়। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।