প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ১২:২২ পিএম
1698
১৪ মে ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
রাজনৈতিক কার্যক্রমমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল ফটকের তালা ভেঙে বাইরে বের হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং একটি ব্যানার অপসারণের চেষ্টা করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় কর্মকাণ্ডের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জানা যায়, রাত ১১টার দিকে হজরত রাবেয়া বসরী ছাত্রীনিবাসসহ বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। শুরুতে তারা কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। পরে কয়েকটি ফটকের তালা ভাঙার চেষ্টা চালানো হয় এবং একপর্যায়ে মূল ফটকের তালা ভেঙে বাইরে বের হন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের “ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই ইডেনে হবে না” স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে তারা কলেজ গেটের সামনে টানানো একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন এবং তাতে আগুন দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত আগুন ধরাতে পারেননি।
ব্যানারটিতে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের কয়েকজন সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানানোর বার্তা ছিল। সেখানে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী তৈয়বা ত্বাহার নাম উল্লেখ ছিল।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল ফটকে কালো রঙ দিয়ে “সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত ইডেন ক্যাম্পাস” লিখে দেন।
এর আগে সন্ধ্যার দিকে কলেজ গেটে লেখা “রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস” স্লোগানটি রং দিয়ে মুছে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতির কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
এদিকে, ইডেন কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতেও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল এবং এসব কার্যক্রমের পেছনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ করেন।