প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
1692
১৪ মে ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আবাসন ব্যবসার আড়ালে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া হায়দার কবির মিথুনের বয়স ৫৪ বছর। তার বাড়ি দক্ষিণখানের উত্তর ফায়দাবাদ এলাকায়। তিনি হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, উত্তরখান থানার নিকটবর্তী এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর ৯ তলা বিশিষ্ট চার ইউনিটের একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩৬টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা। আকর্ষণীয় প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহককে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে তারা শেয়ার কেনার জন্য অর্থ জমা দেন। এক বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে এক লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। একই সময়ে তার এক বন্ধু আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ উপস্থিত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের পর কোম্পানির পক্ষ থেকে মানি রিসিট ও চেক দেওয়া হলেও পরবর্তীতে প্রতিশ্রুত জমি বা শেয়ার রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
পরে অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল এবং বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা অর্থ ফেরত চাইলে গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখানো হতো এবং অনেককে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন, কোম্পানির এমডি মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন। পরে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হলেও তারা ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত আর্থিক লেনদেনের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, হায়দার কবির মিথুন কোম্পানির প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে বিদেশে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় একাধিক প্রতারণা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।