বৃহস্পতিবার ১৪, মে ২০২৬

১৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

নৌকা ও স্পিডবোট থেকে সরাসরি লঞ্চে ওঠা বন্ধ: শেখ রবিউল আলম

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

1698

ঈদযাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

আসন্ন ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও দুর্ঘটনামুক্ত করতে নদীর মাঝখানে নৌকা কিংবা স্পিডবোট থেকে সরাসরি লঞ্চে যাত্রী ওঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম  বলেছেন, কোনো যাত্রী আর নৌকা বা স্পিডবোট ব্যবহার করে মাঝনদী থেকে লঞ্চে উঠতে পারবেন না।

সোমবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদযাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গত ঈদে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত নৌদুর্ঘটনার পর সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সদরঘাট এলাকায় কোনো যাত্রী নৌকা বা স্পিডবোট থেকে সরাসরি লঞ্চে উঠতে পারবেন না। তবে যাত্রীরা টার্মিনালের পন্টুন ব্যবহার করে নির্ধারিত নিয়মে লঞ্চে উঠতে পারবেন। এতে নৌযাত্রায় বিশৃঙ্খলা কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর সময় চালকদের অবশ্যই যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ওঠাতে হবে। একই সঙ্গে ফেরি পন্টুনের নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও উঁচু ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহার আগে পাঁচ দিন এবং পরে পাঁচ দিনসহ (২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত) সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে।

সদরঘাটে যাত্রীচাপ কমাতে বিকল্প লঞ্চসেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা ঘাট এবং পূর্বাচলের কাঞ্চন ব্রিজসংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল করবে। এছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত বিআরটিসির বিশেষ শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হবে।

এছাড়া ঈদের আগে তিন দিন এবং পরে তিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে কোরবানির পশুবাহী ট্রাককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সদরঘাটে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে মালামাল পরিবহনের জন্য নিয়মিত ট্রলি সেবা চালু রাখা হবে। পাশাপাশি অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোরবানির পশুবাহী নৌযান ঘাটে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। ঘাট ইজারাদার বা সংশ্লিষ্ট কেউ জোরপূর্বক নৌযান টানাটানি করতে পারবে না। পশুবাহী নৌযানগুলোকে কোন ঘাটে পশু নামানো হবে, তা ব্যানারের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া কোনো লঞ্চ বা নৌযান আদায় করতে পারবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!