বৃহস্পতিবার ১৪, মে ২০২৬

১৪ মে ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

 শ্রম আইনে ‘জেন্ডার’ পরিভাষা বাতিল বা সংশোধনের দাবি ৩৩০ বিশিষ্টজনের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

1700

বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনে যুক্ত হওয়া ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’ ও ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’সহ কয়েকটি পরিভাষা বাতিল বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মতে, এসব শব্দের সুস্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা না থাকায় ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (১২ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাত স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রম আইন মূলত শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হওয়া উচিত। সেখানে অস্পষ্ট ও বিতর্কিত মতাদর্শভিত্তিক পরিভাষা যুক্ত হলে সামাজিক বিভাজন ও মূল্যবোধগত সংঘাত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে শ্রম আইন, ২০০৬-এ ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’, ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’ এবং ‘জেন্ডারভিত্তিক অন্যান্য আচরণ’ শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব শব্দের কোনো স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়নি।

তাদের দাবি, সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ছাড়া এসব শব্দ ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা আইনগত জটিলতা ও সামাজিক বিতর্ক বাড়াতে পারে।

বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, এ ধরনের সংশোধনের ফলে জন্মগত পুরুষ নিজেকে নারী পরিচয় দিয়ে নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থান বা সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন। এতে নারীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

তারা মনে করেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই আইন প্রণয়ন করা উচিত। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বিবৃতিতে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’র নামে নারী-পুরুষের বেশভূষা পরিবর্তনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, শ্রম আইনে ব্যবহৃত ‘লিঙ্গ’ ও ‘জেন্ডার’ শব্দের স্পষ্ট ও আইনগত সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে বিতর্কিত ও অসংজ্ঞায়িত পরিভাষাগুলো আইন থেকে অপসারণ বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, সাংবাদিক আলী হাসান তৈয়বসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা।

Link copied!