বৃহস্পতিবার ১৪, মে ২০২৬

১৪ মে ২০২৬, ১০:১১ পিএম

 ভোটার ডেটাবেজ সুরক্ষা ও পদ্মা ব্যারেজসহ ১৬ প্রকল্প একনেকে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ১১:২০ এএম

1693

বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। বুধবার অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা, নির্বাচন অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো নির্বাচন কমিশনের ভোটার ডেটাবেজ সুরক্ষা ও আধুনিকায়ন উদ্যোগ। ‘উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং নির্বাচনী ডেটাবেজের জন্য সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় একটি আঞ্চলিক, তিনটি জেলা এবং ৪৫টি উপজেলা পর্যায়ে সার্ভার স্টেশন ও নির্বাচন অফিস নির্মাণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তথ্যভান্ডার বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডেটাবেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নাগরিক তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ইভিএম, ব্যালট বাক্স এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম নিরাপদ সংরক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একনেক বৈঠকে আলোচনায় আসছে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পও। প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় পদ্মা নদীর ওপর এই ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি প্রবাহ ও নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফারাক্কা ব্যারেজের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলা, লবণাক্ততা হ্রাস, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে ব্যারেজ থেকে সম্ভাব্য ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হবে।

এদিনের বৈঠকে আরও যেসব প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যায় উন্নীতকরণ, হাই-টেক সিটি-২ অবকাঠামো নির্মাণ, বিমসটেক সচিবালয় ভবন নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ এবং সাভার ক্যান্টনমেন্টে আবাসন কমপ্লেক্স স্থাপন।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্প ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে নকশা পুনর্বিন্যাস, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার, নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পানি ব্যবস্থাপনায় বড় বিনিয়োগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

Link copied!