বুধবার ১৭, জুন ২০২৬

১৭ জুন ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

মেসির হ্যাটট্রিকে উড়ন্ত আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

1697

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে বড় জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি ইতিহাসের পাতায়ও নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন এই মহাতারকা।

ম্যাচে তিন গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের গোলসংখ্যাকেও স্পর্শ করেছেন তিনি। দু’জনেরই বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ তে।

ম্যাচের শুরু থেকেই মেসিকে নিয়ে কৌতূহল ছিল সবার। তিনি প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে কোচ লিয়োনেল স্কালোনি শুরু থেকেই দলের আক্রমণের নেতৃত্ব তুলে দেন মেসির কাঁধে। তার প্রতিদানও দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

Argentina.jpg
আর্জেন্টিনা দলের উল্লাস

শুরুর দিকে দুই দলই মাঝমাঠের দখল নিতে লড়াই করেছে। খাতায়-কলমে শক্তিশালী হলেও আর্জেন্টিনা শুরুতে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আলজেরিয়া কয়েকবার বলের দখল নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটেই দুই দল গোলের দেখা পেলেও অফসাইডের কারণে সেগুলো বাতিল হয়। এতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এর ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। মেসির একটি গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

অবশেষে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে  জালের দেখা পান মেসি। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডাররা তাঁকে কড়া নজরে রাখলেও মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকেই বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে গোল করেন তিনি। গোলরক্ষক বল স্পর্শ করলেও তা রুখতে পারেননি। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

গোলের পর আর্জেন্টিনা নিজেদের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দলটি ওয়ান-টাচ ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে এবং বলের দখল ধরে রাখার চেষ্টা চালায়। মেসিও কখনও নিচে নেমে খেলা তৈরি করেছেন, আবার কখনও আক্রমণভাগে উঠে গিয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেছেন। এতে সতীর্থদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি সহজ হয়েছে।

প্রথমার্ধে আলজেরিয়া গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে স্কালোনির দল।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। এক পর্যায়ে রদ্রিগো ডি পল দারুণ সুযোগ পেলেও নিজে শট না নিয়ে মেসিকে বল দিতে গিয়ে আক্রমণ নষ্ট করেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি।

একটি আক্রমণের সূচনা করেছিলেন তিনিই। বাঁ প্রান্ত থেকে সতীর্থকে পাস দেওয়ার পর বল যায় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাছে। তাঁর নেওয়া শট গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বল পেয়ে ডান পায়ের শটে জালে পাঠান মেসি। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

মেসির ওপর চাপ কমাতে ৫৫ মিনিটের মাথায় আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনেন কোচ স্কালোনি। লাউতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। লক্ষ্য ছিল, যতটা সম্ভব মেসিকে সতেজ রাখা।

তবে আলজেরিয়ার জন্য দুঃসংবাদ হয়ে আসে ম্যাচের ৭০তম মিনিট। বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গা পেয়ে আবারও বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান মেসি। সেই গোলেই পূর্ণ হয় তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের পাশে জায়গা করে নেন তিনি।

হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পরই মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ স্কালোনি। ম্যাচের মূল দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাঁকে নিয়ে আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি আর্জেন্টাইন কোচ। নিজের কাজ শেষ করে তাই আগেভাগেই মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

অন্যদিকে ম্যাচে একটি বিশেষ দিক ছিল আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের উপস্থিতি। তিনি ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে। তবে বাবার দেশ ফ্রান্সের পরিবর্তে মায়ের দেশ আলজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

মেসির অনবদ্য নৈপুণ্য ও দলগত ফুটবলে ভর করে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

Link copied!