প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
1692
১৬ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল ও টেকসই রূপান্তরের লক্ষ্যে কারিকুলাম (পাঠ্যক্রম), শিক্ষক, অবকাঠামো এবং বিভিন্ন শিক্ষা ধারার সমন্বয়—এই ৪টি মূল স্তম্ভের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি আন্তর্জাতিক মানের সাথে সংগতি রেখে কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রযুক্তির প্রায়োগিক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানী ঢাকার র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত ‘ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড লঞ্চ ইভেন্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়াতে একটি সুস্পষ্ট, যুগোপযোগী ও দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নির্ধারণ করেছে। এই ভিশনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি, দক্ষ আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বর্তমান শিক্ষাকে পুরোপুরি কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।’
দেশের বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭টিরও বেশি ধরনের ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা ধারা বিদ্যমান রয়েছে। এসব ধারায় পড়াশোনা করা দেশের সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড (ইউনিফর্ম মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড) নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে মাদ্রাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৌলিক জ্ঞান, জীবনমুখী দক্ষতা ও প্রতিযোগিতার বাজারে সমমানের সুযোগ ও অধিকার পায়।
শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকের মূল চালিকাশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে এক চমৎকার উদাহরণ দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘চাকা ছাড়া যেমন কোনো গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক ছাড়া কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা সচল থাকতে পারে না।’ তিনি জানান, দেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কেমব্রিজের বিশ্বখ্যাত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং তাদের দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে ইতিবাচক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে।
উক্ত হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তি, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।