প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
1697
১৬ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত এবং সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক বিতর্কিত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া জোরদারভাবে চলমান রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিভিন্ন দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) রেড নোটিশ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ সফলভাবে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের মুখোমুখি ও উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনার জন্য যথাযথ কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রত্যর্পণের (Extradition) প্রক্রিয়া পুরোদমে চলমান রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে অন্যতম একটি স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্য।’
সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাম্প্রতিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও এবং জামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ১৩১ জন নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া) একটি বড় চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে বিজিবির অত্যন্ত দৃঢ়, সাহসী ও প্রতিরোধমূলক অবস্থানের কারণে বিএসএফের সেই অবৈধ প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমার সীমান্তেও ৮৯ জন রোহিঙ্গার নতুন করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করেছে বিজিবি এবং পাশাপাশি মিয়ানমারে আটকে থাকা ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সফলভাবে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত বৈঠকের তথ্য জানিয়ে আরও বলেন, গত ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লিতে ঐতিহ্যবাহী ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের মাটিতে পুশইন এবং সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অত্যন্ত দৃঢ় ও জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা, সীমান্তে সমন্বিত যৌথ টহল (Coordinated Patrol) কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।