রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৭ এএম

বেলা ১১টায় রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

1703

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত মামলার রায় বেলা ১১টায় ঘোষণা হতে পারে।আজ রোববার (৭ জুন) সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মামলার অন্যতম আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এবং সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই কড়া পাহারায় আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। আলোচিত এই রায়কে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির গড়ে মাত্র চার কার্যদিবসে এই মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন করা হয়। গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন (৭ জুন) ধার্য করেন আদালত। এর আগে গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ, যেখানে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়। এরপর ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার এজাহার ও বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার স্কুল যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা।

এই লোমহর্ষক ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন রামিসার বাবা। আজ পুরো দেশ চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের দিকে।

Link copied!