শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

গোসলে নেমে এক পরিবারের ৩ জন নিখোঁজ, মরদেহ উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

1694

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি (DND) লেকের পানিতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিন সদস্য নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মা স্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিটির সামনে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—মো. রাশেদুজ্জামান (২২), তার শ্যালক মো. গালিব (১৮) এবং গালিবের ছোট বোন মোসা. সুরাইয়া (১২)। তারা সবাই সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে রাশেদুজ্জামান, গালিব ও সুরাইয়া কদমতলী সংলগ্ন ডিএনডি লেকে একসঙ্গে গোসল করতে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে গভীর পানির স্রোতে তারা তিনজনই আকস্মিকভাবে পানিতে তলিয়ে যান। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তারা ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা লেকের ঘাটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পাওয়ার পরপরই নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একটি বিশেষ ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লেকের গভীর পানিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরিরা দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে একে একে রাশেদুজ্জামান, গালিব এবং তার বোন মোসা. সুরাইয়ার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসেন। লেক থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধারের পর কদমতলী এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

নিহতদের পারিবারিক পরিচয়ে জানা গেছে, রাশেদুজ্জামানের স্থায়ী বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ এলাকায়। তার বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন। অপরদিকে, আপন ভাই-বোন গালিব ও সুরাইয়ার স্থায়ী বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবার নাম আকরাম আলী। সম্পর্কে রাশেদুজ্জামান হলেন গালিব ও সুরাইয়ার আপন দুলাভাই।

ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান দ্রুত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি—নিহত রাশেদুজ্জামান, গালিব ও সুরাইয়া তিনজনই খুব ভালো সাঁতার জানতেন। সাঁতার জানার পরও তারা ঠিক কী কারণে একযোগে পানির নিচে তলিয়ে গেলেন, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লেকের ওই অংশে কোনো চোরাবালি বা গভীর গর্ত ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি সহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Link copied!