শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

নতুন সম্ভাবনার জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

1697

মির্জা ফখরুল

“পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেকোনো যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছে,” বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‌‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমি আজ এখানে কোনো প্রথাগত প্যানেল আলোচক হিসেবে নিজের বক্তব্য দিতে আসিনি। বরং, আমি এখানে এসেছি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার মূল লক্ষ্যের প্রতি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ও ঐকান্তিকতা ব্যক্ত করতে। ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই নতুন সরকার মাত্র ১০০ দিনের কিছু বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের সময় কম হতে পারে, কিন্তু একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও অটুট।”

তিনি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর, টেকসই স্থিতিশীল এবং শিল্পোন্নত দেশে রূপান্তর করা, যেখানে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক নাগরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতভাবে পাবে।”

সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “বিগত কয়েক মাসে আমাদের জাতীয় জীবনে ঘটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় বিষয়টি হলো—আমরা বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বৈরাচারমুক্ত করে ফিরে পেয়েছি। আমরা একটি সত্যিকারের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশের মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি পুনরায় দেশ পরিচালনায় স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।”

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, “বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ আকর্ষণে আমরা সবসময় রাষ্ট্রীয় নীতির ধারাবাহিকতা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বলেছি; যা সম্ভবত বাংলাদেশ বা বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো বৃহৎ বিনিয়োগকারীর জন্য ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান বিষয়।”

উল্লেখ্য, এর আগে সকালে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে নিজ নিজ দপ্তরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবা‌য়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপ‌দেষ্টা রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন ক‌বির এবং পররাষ্ট্রস‌চিব আসাদ আলম সিয়ামসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

Link copied!