রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৫ এএম

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসির রায়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

1703

প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসির রায়) দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে এই অর্থদণ্ডের টাকা আদায়পূর্বক ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আজ রোববার (৭ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যunalের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের বিচারিক ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হওয়ার এক অনন্য নজির ও রেকর্ড তৈরি হলো। বিচার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অতীতে এ ধরনের জঘন্য মামলার বিচার এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত এই মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায় পর্যন্ত আসতে সময় নিয়েছে মাত্র ৫ কার্যদিবস। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হলো।

ন্যায়বিচার পেয়ে আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু। রায়ের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আইনজীবী দুলু বলেন, “এই রায়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”

উল্লেখ্য, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং ভুক্তভোগী পরিবারের বাসায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছিলেন এবং বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছিলেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করে এই বিচারকাজ চালানো হয়।

মামলার বিবরণ ও জবানবন্দি অনুযায়ী, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন সকালে কৌশলে রামিসাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন স্বপ্না। পরে যুক্তিতর্কে উঠে আসে যে, সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না মূল ঘাতক সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই ঘরের দরজা খুলেছিলেন।

ঘটনার দিনই পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং ওই সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল অপরাধী সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। পরবর্তীতে গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা হয়েছিল।

Link copied!