প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
1698
১৪ জুন ২০২৬, ০৫:০২ এএম
চলতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথমবারের মতো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যাপনের লক্ষ্যে বিশাল প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের জন্য জরুরি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। চিঠির সাথে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাগৃহীত সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল বা মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সম্পৃক্ত করা হয়েছে দেশের প্রায় সব বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
* মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়;
* সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও তিন বাহিনীর প্রধান;
* মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও);
* পুলিশ সুপার (এসপি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ (ওসি)।
কার্যবিবরণী বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে বিশেষ স্মারক পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য সর্বস্তরের জনগণের মাঝে তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনাসভা, স্মৃতিচারণা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও ছক তৈরি করা হয়েছে।
দিবসটি উদ্যাপনের প্রস্তুতির সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ, বাণিজ্য এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে খাতভিত্তিক বিশেষ আয়োজনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সাথে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেও এই কার্যক্রমে অংশ নিতে অবহিত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি-private প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে বর্ণিল আলোকসজ্জা, বিশেষ আলোচনাসভা, দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান এবং গণসচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের নিজ নিজ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে, যাতে এই ঐতিহাসিক দিবসের মূল চেতনা জনগণের কাছে সফলভাবে তুলে ধরা যায়।