প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
1697
১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ এএম
ফাঁসির আসামি সোহেল ও স্বপ্না
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর দুই আসামিকে কারাগারের বিশেষ সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ফাঁসির আসামিদের জন্য নির্ধারিত ‘কনডেম সেলে’ রাখা হয়েছে।
গত সোমবার (৮ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ। তিনি বলেন, *“সোহেলকে কেরাণীগঞ্জে ও স্বপ্নাকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ফাঁসির আসামিদের সাথে সেলে রাখা হয়েছে। দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসির অন্যান্য আসামিরা যেভাবে কারাগারে থাকেন, তাদেরও ঠিক একইভাবে রাখা হয়েছে।
কারাগারে অন্য কয়েদিদের মাঝে এই হাইপ্রোফাইল আসামিদের রাখলে কোনো নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে কি না—জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, *“কারাগার সম্পূর্ণ নিরাপদ জায়গা। আসামিদের নিরাপদে রাখা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সেখানে সবসময় আমাদের সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকে। এরপরও কেউ যদি অন্য কয়েদির প্রতি কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ বা মারামারি করে, তখন কারা কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পানিশমেন্ট সেলে (শাস্তিমূলক সেল) নেওয়া হয়।”*
তিনি ফাঁসির সেলের ভেতরের পরিবেশের ব্যাখ্যা দিয়ে আরও বলেন, *“ফাঁসির আসামিদের সাধারণত সেলে একা রাখা হয় না। কারণ মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর তারা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ও খারাপ অবস্থায় থাকে। একা থাকলে তারা আত্মহত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটাতে পারে। এজন্য সবার সঙ্গেই রাখা হয়। সাধারণত ফাঁসির একটি সেলের আয়তন বা সাইজ বিবেচনা করে সেখানে ২ থেকে ৫ জন আসামিকে একসাথে রাখা হয়।”*
উল্লেখ্য, গত রোববার (৭ জুন) দেশের বিচারিক ইতিহাসের সবচেয়ে কম ও দ্রুততম সময় মাত্র ৬ কার্যদিবসে বহুল আলোচিত এই শিশু হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ে পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের মূল দুই আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা সুনির্দিষ্ট অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায় ঘোষণার পরই আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিশেষ সেলে বন্দি করার পদক্ষেপ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।