প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
1682
১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ এএম
অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো দ্রুত জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকেয়া বেতন-অনুদান অবিলম্বে ছাড়ের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের এই লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ২০তম দিন এবং কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনের ৩য় দিন চলছে।
অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন বলেন, দীর্ঘ ২০ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন এবং তিন দিন ধরে আমরণ অনশন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের যোগাযোগ বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষকের বয়স ইতিমধ্যে ৫০ বছরের বেশি এবং তীব্র গরমে রাজপথে টানা অনশনের কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের জুলাই মাসে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও একটি মাদরাসাও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত করা হয়নি। একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও শূন্য পদে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন-অনুদানও রহস্যজনক কারণে ছাড় করা হয়নি।
সদস্য সচিব আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এসব মাদরাসায় কর্মরত থাকলেও তারা তাদের ন্যায্য আর্থিক সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং এর নেতিবাচক প্রভাবে শিক্ষার্থীরাও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হয়নি।
শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণের স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো লালফিতার দৌরাত্ম্যে বাস্তবায়িত হয়নি। তারা অবিলম্বে এই এমপিও কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুমোদিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকেয়া অনুদান দ্রুত ছাড়ের জোর দাবি জানান।
সবশেষে, শিক্ষক কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেন, যৌক্তিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজপথে এই আমরণ অনশন কর্মসূচি কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।