রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ এএম

নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী দ্রুত পদায়ন চান ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

1702

জাতীয় প্রেস ক্লাবে দ্রুত বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে ২০২৫ ব্যাচের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ব্যানার হাতে সংবাদ সম্মেলন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিদ্যালয়ে পদায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলন থেকে নিয়োগ কার্যক্রমের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ এবং এনএসআই (NSI) রিপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবিও তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বলেন, *"আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ ব্যাচের ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। চূড়ান্ত সুপারিশের পর প্রায় দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমাদের এখনো বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়নি। এর ফলে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার চরম আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে।"*

ভুক্তভোগী প্রার্থীরা জানান, প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর অনেক প্রার্থী তাঁদের পূর্বের বেসরকারি বা অন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, অনেকে নতুন কোনো চাকরিতে যোগদান করেননি। ফলে অনেকেই বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস হারিয়ে এক প্রকার বেকার ও মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৯ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ লিখিত, মৌখিক ও অন্যান্য সব আইনি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সুদীর্ঘ ইতিহাসে চূড়ান্ত সুপারিশের পর বিদ্যালয়ে পদায়নে বা যোগদানে এত দীর্ঘসূত্রিতা ও সময়ক্ষেপণের কোনো নজির পূর্বে নেই।

সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁদের মূল দাবি ও আশঙ্কার বিষয়গুলো কয়েকটি পয়েন্টে তুলে ধরেন:

পদায়নের পর প্রশিক্ষণ: প্রার্থীরা জানান, তাঁরা কখনোই সরকারি প্রশিক্ষণের বিরোধী নন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা আরও দক্ষ শিক্ষক হতে চান। তবে চূড়ান্ত সুপারিশের পর পুনরায় মূল্যায়ন কিংবা বিধিমালাবহির্ভূত কোনো নতুন শর্ত আরোপ করা হলে তা প্রার্থীদের মনে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। তাই আগে পদায়ন, তারপর প্রশিক্ষণের দাবি জানান তাঁরা।
বিশেষ নীতিমালা: গর্ভবতী, সদ্য সন্তান জন্মদানকারী নারী শিক্ষক এবং কেউ প্রশিক্ষণ চলাকালীন আকস্মিক অসুস্থ হলে তাঁদের ক্ষেত্রে ছুটি ও অন্যান্য বিষয়ে সুস্পষ্ট এবং মানবিক নীতিমালা ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
তীব্র শিক্ষক সংকট দূরীকরণ: দেশের হাজার হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে, যা পাঠদানকে ব্যাহত করছে। এমন পরিস্থিতিতে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে দ্রুত পদায়ন করলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট এক নিমেষেই দূর হবে।

সহকারী শিক্ষকরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার নতুন একটি ধাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমাদের পূর্বেই জানানো হয়েছিল যে সাধারণ পুলিশ ভেরিফিকেশন (Police Verification) সম্পন্ন হওয়ার পরপরই দ্রুত যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। অথচ এখন রহস্যজনকভাবে সম্পূর্ণ নতুন করে এনএসআই (NSI) ভেরিফিকেশনের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, যা অতীতের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোতে কখনো দেখা যায়নি।

তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরও অতিরিক্ত এই গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের ধাপ যুক্ত করার যৌক্তিকতা কী? এটি কি নিয়োগ কার্যক্রমকে আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল করার কোনো কৌশল? এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ডিপিই (DPE) কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত স্পষ্ট ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেন প্রার্থীরা।

উল্লেখ্য, আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক দেবব্রত সরকারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শতাধিক সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!