প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
1698
১৪ জুন ২০২৬, ০৮:০১ এএম
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সব কনটেইনার টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে পতেঙ্গা, লালদিয়া ও বে টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে চট্টগ্রাম বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হতে পারবে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
চট্টগ্রাম বন্দরের সীমাবদ্ধতা ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, "কলম্বো ও সিঙ্গাপুর মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হওয়ায় সেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। ফলে সেসব বন্দরে কাস্টমস পরীক্ষা বা ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে কাস্টমস পরীক্ষা ও ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণেই ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের তুলনায় এখানে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কিছুটা বেশি লাগে।"
পতেঙ্গা টার্মিনালের সাফল্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুন থেকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বন্দরে জাহাজের গড় অপেক্ষমাণ সময় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। বর্তমানে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ দিন সময় লাগছে। তবে পরিকল্পিত সব টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে এই সময়কে মাত্র অর্ধদিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি বর্তমানে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, লালদিয়া টার্মিনাল উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে চালুর প্রস্তুতি চলছে। বে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে এবং বে টার্মিনাল-২ নিয়ে দুবাইভিত্তিক 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে বে টার্মিনাল-৩ বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম একটি তথ্য সংশোধন করে দিয়ে বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল কোম্পানি, পোর্ট অব সিঙ্গাপুর নয়। পরে মন্ত্রী দাবি করেন, তিনিও সৌদি আরবের ওই কোম্পানির কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
এদিকে সংসদের একই অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, ঐতিহ্যবাহী ‘গম্ভীরা’ পরিবেশনাকে ভবিষ্যতে ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে নমিনেশন ফাইল তৈরির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে ইতোমধ্যে এটিকে জাতীয় বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ইনভেন্টরিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।