শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

ব্রয়লার, ডিম ও মাছের বাজারে প্রভাব পড়েনি বাজেটের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

1700

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট পেশের পরদিনই সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকার অন্যতম অনুষঙ্গ ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বাজেট-পরবর্তী প্রথম ছুটির দিনেও (শুক্রবার) রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েই নিশ্চিত করেছেন যে, পবিত্র ঈদুল আজহার পর নির্ধারিত হওয়া দামেই বর্তমান বাজারে পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ও রায়ের বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের মূল্যের এই স্বাভাবিক চিত্র দেখা যায়।

বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন প্রস্তাবিত বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি এমন কোনো নতুন কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি, যা তাৎক্ষণিকভাবে বাজারদরে কোনো বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এসব অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দেশীয় সরবরাহ চেইন ও খুচরা মূল্য একদম স্বাভাবিক রয়েছে।

আজকের বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি পূর্বের দাম অনুযায়ী ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি প্রতি মূল্য ৩৪০ টাকা এবং প্রতি ডজন ডিমের দাম আকার ও রঙভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রয়লার সাদা ডিম প্রতি ডজন ১১০ টাকা এবং ব্রাউন বা লাল রঙের ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আগের দামের কাছাকাছিই কেনাবেচা হচ্ছে। বাজারভেদে মূল্যে সামান্য তারতম্য থাকলেও বাজেট ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য কোনো আকস্মিক পরিবর্তন ঘটেনি। প্রতি কেজি পাঙাশ মাছ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২৩ টাকা (জীবিত ও মৃতভেদে মূল্যের তারতম্য রয়েছে), রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া দেশি টেংরা প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, বায়লা ৩৫০ টাকা, বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০... থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে চিংড়ি মাছের দাম কিছুটা চড়া দেখা গেছে; আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি কিনতে ক্রেতাদের ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজেটের কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। পাইকারি বাজারে দাম না বাড়লে খুচরা বাজারেও দাম বাড়ে না। তা ছাড়া মাছের বাজার সাধারণত প্রতিদিনের সরবরাহ অনুযায়ী ২০-৩০ টাকা ওঠানামা করে থাকে। ক্রেতারাও স্বস্তি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বাজেটের পর প্রথম দিন বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না থাকাটা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। তবে বাজারের এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারি নজরদারি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

Link copied!