প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
1706
১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণে একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি, দেশপ্রেম এবং উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার যে দর্শন তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা আজও দেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক ও অনুসরণযোগ্য।
সোমবার রাজধানীর বাসাবো এলাকায় অবস্থিত ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মহাপ্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের এক সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অবদান এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জিয়াউর রহমান বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন গতি পেয়েছিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অংশগ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতার সেই চেতনা ও জাতীয় ঐক্য বাংলাদেশের মূল শক্তি। মুক্তিযুদ্ধ দেশের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এ ইতিহাসকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সততা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা ও সুযোগ পাবে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে একটি সম্প্রীতিময় ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের অগ্রযাত্রায় জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।