প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৩০ এএম
1712
১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূল এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে শনিবার সকালে।
রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বাসাবাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ড্রেন এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। বিশেষ করে কোথাও যেন বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো ধরনের স্বচ্ছ পানি জমে না থাকে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে।
বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পরিবার যদি নিজ নিজ বাসস্থান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে, তাহলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। সচেতনতা বৃদ্ধির পরও যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবহেলা প্রদর্শন করে এবং তাদের স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনারও ঘোষণা দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, সংস্থাটির জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে রবিবার থেকে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালিত হবে। এর আওতায় এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, ধ্বংস এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। র্যালির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।