শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব শহীদ জিয়ার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

1696

বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল

গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

 

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি থানা সদর এলাকায় ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ জিয়া।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আধুনিকায়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে প্রতিটি থানা সদর এলাকায় ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এই পদক্ষেপ দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নেওয়া উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে ৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল, যা গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শহীদ জিয়ার উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে বর্তমান সরকারও গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান ৩১ ও ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত ছাড়াও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে খাল খনন কর্মসূচি ছিল তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পানি সংরক্ষণ ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সেই কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব দেশের কৃষি খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান রয়েছে।

তিনি জানান, জলাধার সংরক্ষণ ও পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকারও খাল খনন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিশুদের সৃজনশীল বিকাশ ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণে শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি দেশ পরিচালনায় সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে আজও আলোচিত।

আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ও সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান, সংগঠনের নেতা জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ ও স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্যখাতের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Link copied!