শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

পাকিস্তান-লেবাননের সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ, সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

1696

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির ও লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হেইকালের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হেইকাল। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা পারস্পরিক সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একমত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই দুই সেনাপ্রধানের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান। দুই দেশের (ওয়াশিংটন ও তেহরান) মধ্যকার যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে যেন লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেই দাবি জোরালোভাবে জানিয়ে আসছে ইরান। উল্লেখ্য, লেবাননের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক ও তীব্র হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। লেবাননের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, লেবাননের সেনাপ্রধানের এই পাকিস্তান সফর মূলত বৃহত্তর শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবেই সম্পর্কিত।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশের সেনাপ্রধান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন。

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে লেবাননের সেনাপ্রধান হেইকালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আনুষ্ঠানিক বৈঠকে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির।

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির কাছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের একটি ‘বিশেষ বার্তা’ পৌঁছে দিতে ইরান সফর করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চুক্তির মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি এই জরুরি সফরে যান।

এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরমাণু বা শান্তি চুক্তির আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই।

গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটন পরোক্ষভাবে বার্তা বিনিময় করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদের বুকে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের মধ্যে সরাসরি এবং ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়

চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) হামলার প্রতিশোধ হিসেবে গত রোববার রাতে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ইরানি হামলার জবাবে ইসরায়েলও পাল্টা বিমান হামলা চালালে চিরবৈরী দুই শত্রুপক্ষের এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা তৈরি করে। তবে পরবর্তীতে অবশ্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে উভয় পক্ষই আর নতুন করে হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।

Link copied!