শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

আফগানিস্তানের ৩ প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ১১ শিশুসহ নিহত অন্তত ১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

1695

আফগানিস্তানের তিনটি সীমান্ত প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর আকস্মিক হামলায় ১১টি শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় আরও ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আজ বুধবার (১০ জুন) নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এই বিমান হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো খোস্ত, কুনার এবং পাকতিকা প্রদেশের একাধিক স্থানে এই বিমান হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনই নিষ্পাপ শিশু, একজন নারী এবং একজন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় সীমান্ত এলাকার বেশ কিছু সাধারণ বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় নিরাপত্তা ও টহল জোরদার করেছে আফগান প্রশাসন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুই দেশের সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের পর থেকে একাধিক দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষেই বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে অবস্থানরত নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী 'তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান' (টিটিপি) তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব গোষ্ঠীকে আফগান ভূখণ্ডে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তবে কাবুল বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

টিটিপি আফগান তালেবানের সঙ্গে আদর্শিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলেও এটি মূলত একটি পৃথক সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এই গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিমান হামলা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং দীর্ঘ সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও বেশি অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Link copied!