শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

৪৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন থাই রাজকুমারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৩ এএম

1700

থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত প্রয়াত রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা নরেন্দিরা দেব্যাভতি

থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা নরেন্দিরা দেব্যাভতি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় গভীর কোমায় থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। রাজকুমারীর এই অকাল মৃত্যুতে রাজপরিবারসহ পুরো থাইল্যান্ডে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজপ্রাসাদের বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে চিকিৎসকরা রাজকুমারীকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ বোর্ড তাঁর সর্বোচ্চ চিকিৎসা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাঁর শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে তিনি মূলত লাইফ সাপোর্টে গভীর কোমায় অবস্থান করছিলেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় নিজের পোষা কুকুরদের সঙ্গে ব্যায়াম করার মুহূর্তে হঠাৎ অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা। চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রে গুরুতর সংক্রমণ এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের (কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া) কারণে তিনি সঙ্গে সঙ্গে কোমায় চলে যান। এরপর জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ব্যাংককের চুলালংকর্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

রাজপ্রাসাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পেটে সংক্রমণ, কোলন প্রদাহ, মারাত্মক নিম্ন রক্তচাপ এবং শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো একাধিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। আধুনিক চিকিৎসা চললেও ধীরে ধীরে তাঁর মস্তিষ্ক ও শরীর সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে।

রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা ছিলেন থাই রাজপরিবারের অন্যতম উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ ও প্রভাবশালী সদস্য। তিনি ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি রাজা ভাজিরালংকর্ন ও তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস সোমসাওয়ালির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। উচ্চশিক্ষায় তিনি আইন বিষয়ে ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি একজন সফল আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং থাইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের স্থায়ী মিশনে কাজ করেছেন এবং অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে নারী অধিকার রক্ষা, কয়েদিদের সংশোধন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর বৈশ্বিক ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

থাই রাজপরিবারের ভেতরে তাঁকে ভবিষ্যৎ রাজসিংহাসনের অন্যতম উত্তরাধিকারী ও সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে দেখা হতো। তাঁর এই অকাল প্রস্থান থাই রাজপরিবার ও প্রশাসনের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুসারে রাজকুমারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে এবং দেশটিতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ থাই নাগরিক তাঁদের প্রিয় রাজকুমারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জানাচ্ছেন।

Link copied!