রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ এএম

ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

1701

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় গভীর রাতে এক শিউরে ওঠার মতো নৃশংস অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। একটি বাড়িতে জানালার গ্রিল কেটে হানা দেওয়া ডাকাত দল সোনা ও নগদ টাকা লুটের পর, এক গৃহবধূ ও তাঁর ১৫ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই বর্বর ঘটনাটি ঘটে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট সন্দেহে পুলিশ ইতিমধ্যে দ্রুত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে।

পুলিশের হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন (২৩), কেফায়েত হোসেন (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)। তাঁরা সবাই একই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর স্বামী কর্মসূত্রে চট্টগ্রাম নগরে চাকরি করেন। বাড়িতে ১৫ বছর ও ৭ বছরের দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে ওই গৃহবধূ একাই থাকতেন। গতকাল সোমবার দিবাগত শেষ রাতে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ওই বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা প্রথমে ঘরের জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ঘরের আলমারি ভেঙে মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে। লুটপাট শেষে ডাকাত দলের সদস্যরা ওই গৃহবধূ ও তাঁর কিশোরী মেয়েকে আটকে রেখে পাশবিক ও দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে সটকে পড়ে।

উদ্ধার ও চিকিৎসার বিষয়ে ওই গৃহবধূর ছোট ভাই গণমাধ্যমকে বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা চলে যাওয়ার পর খবর পেয়ে আমরা দ্রুত বোনদের বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আমার বোন ও ভাগনি চরম আতঙ্ক ও ট্রমার মধ্যে জড়সড় হয়ে দুটি আলাদা কক্ষে বসে কাঁদছেন। তাঁদের মুখে পুরো ঘটনার বীভৎস বর্ণনা শুনে আমরা রাত চারটার দিকেই তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এই পৈশাচিক ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, *“এমন বর্বর ও পৈশাচিক ঘটনা এই শান্ত এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি, কারও কাছে শুনিনি। আমার নির্দোষ মেয়ে ও নাতনির ওপর যারা এমন পাশবিক ও অমানুষিক নির্যাতন চালাল, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে যেন ফাঁসি দেওয়া হয়। সরকারের কাছে আমার আর কোনো চাওয়া নেই, শুধু এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”*

জানতে চাইলে চকরিয়া সময়ের এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ভোরেই এলাকায় একটি বিশেষ চিরুনি অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটককৃতদের ভুক্তভোগীদের সামনে আনা হলে, এর মধ্যে চারজনকে তারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করেছেন। এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের কঠোর আইনি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!