প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
1694
১৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচী নিয়ে বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই, অর্থাৎ আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে বহুল প্রতিক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আজ জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী এক বছরের (১২ মাস) মধ্যে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন করার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, ‘সারাদেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বর্তমান মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা কী?’
জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদকে জানান, ‘চলতি ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুমের ঠিক পরপরই, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে নগর পর্যায় পর্যন্ত সব কটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাজেটের আর্থিক প্রাপ্যতা এবং নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো আয়োজন করা হবে। এক্ষেত্রে কৌশলগত কারণে প্রথমে তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর নির্বাচন দেওয়া হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনের ঝুলে থাকা নির্বাচনও এই একই নির্ধারিত সময়সীমার (এক বছর) মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।’
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংসদকে জানান, নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক আর্থিক পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতোমধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। কারণ দেশজুড়ে এত বড় পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয়। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব থেকে আসা এই প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, সামগ্রিক নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত ও নিখুঁত ব্যয় নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হলে এবং বাজেট পাস হওয়ার পর নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ত্রিপক্ষীয় কাজ শুরু করবে বলে জানান মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।