মঙ্গলবার ১৬, জুন ২০২৬

১৬ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

 ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযানের নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

1692

জাতীয় অর্থনীতি ও মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় ইলিশ মাছের উৎপাদন ও প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত করে এমন সব ধরনের ক্ষতিকর অবৈধ জাল উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধে অবিলম্বে কারখানাগুলোতে কঠোর বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, দেশের একশ্রেণীর অসাধু চক্র কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জালসহ হরেক রকমের ক্ষতিকর জাল তৈরি করছে, যা ব্যবহার করে জেলেরা নির্বিচারে মা ইলিশ ও জাটকা শিকার করছেন। নদী ও সাগরের মৎস্য বৈচিত্র্য রক্ষায় এই জালের উৎস বা উৎপাদনস্থলেই আঘাত হানতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর মৎস্য ভবনের প্রধান সম্মেলন কক্ষে ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬ এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কড়া নির্দেশনা দেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘ইলিশ বাংলাদেশের প্রথম ঐতিহ্যবাহী ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য এবং এটি আমাদের বৈশ্বিক গর্ব ও এক অন্যতম প্রধান জাতীয় সম্পদ। এই একটিমাত্র ফিশারিজ খাতের সঙ্গে দেশের প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সরাসরি জড়িত। জাতীয় জিডিপিতে ইলিশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রাকৃতিক উৎপাদন যদি বৈজ্ঞানিক উপায়ে আরও বাড়ানো যায়, তবে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধরনের ইতিবাচক ও বৈপ্লবিক প্রভাব ফেলবে।’

খাতের ব্যাপকতা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০ লাখের বেশি সাধারণ মানুষ ইলিশ উৎপাদন, আহরণ, পরিবহন ও বিপণন চেইনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন, যা এই খাতকে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অন্যতম বৃহত্তম ও শক্তিশালী উৎসে পরিণত করেছে। তাই এই খাতের টেকসই উন্নয়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া আমাদের জন্য অপরিহার্য। মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় জেলেদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, গত বছর নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন প্রায় ৪০ হাজার প্রকৃত জেলেকে খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে ভিজিএফ (VGF) চাল দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ভিজিএফ সহায়তার পরিমাণ, স্থায়িত্ব এবং পরিধি আরও বহুগুণ বাড়ানো হবে, যাতে জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ ধরা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসাহিত হন।

কৃষি ও মৎস্য খাতের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ঐতিহাসিক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে অতীতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যুগান্তকারী বিভিন্ন দূরদর্শী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের নদী-নালা সচল করতে দেশজুড়ে ঐতিহাসিক “খাল খনন কর্মসূচি” শুরু করেছিলেন, যা মৎস্য চাষে জোয়ার এনেছিল। পরবর্তীতে তাঁরই ধারাবাহিকতায় প্রয়াত সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আইন করে জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে যুগান্তকারী ও বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নেন। পূর্ববর্তী সরকারের এসব সোনালী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধির জন্য নানামুখী আধুনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

তিনি তৃণমূলের অধিকার নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন করছে। ধীরে ধীরে দেশের সব প্রান্তিক ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। দেশের প্রকৃত মৎস্যজীবীরাও এখন থেকে এই বিশেষ “কৃষক কার্ড”–এর সমপরিমাণ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হবেন।’

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সুচারু সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মূল্যায়ন কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার ও সৈয়দা নওয়ারা জাহান এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র। এ ছাড়া কর্মশালায় দেশের ইলিশ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সম্মানিত সদস্যরা, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপকূলীয় জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের টেকনিক্যাল সেশনে জাটকা সংরক্ষণের সার্বিক চিত্র ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নিয়ে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট পেপার) উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের দক্ষ উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

Link copied!