মঙ্গলবার ১৬, জুন ২০২৬

১৬ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

 সংসদ হুটহাট কথা বলার জায়গা নয়, নিয়ম মানতে হবে: স্পিকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

1695

জাতীয় সংসদের রুলস অফ প্রসিডিউর (কার্যপ্রণালি বিধি) ও সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সকল সংসদ সদস্যের (এমপি) প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সংসদ হুটহাট করে যখন-তখন কথা বলার জায়গা নয়। এখানে জনগণের পক্ষে কোনো কথা বলতে হলে অবশ্যই নির্দিষ্ট নিয়ম, সংসদীয় রীতিনীতি ও সময় মেনে চলতে হবে।’

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনের কার্যক্রমের শুরুতে এক রুলিংয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এসব কড়া নির্দেশনা দেন স্পিকার।

এর আগে অধিবেশন শুরু হলে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন আকস্মিকভাবে ‘পয়েন্ট অফ অর্ডারে’ দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। এরপরই পয়েন্ট অফ অর্ডার তোলার সার্বিক আইনি ও সংসদীয় বিধিবিধান নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন স্পিকার।

সংসদ সদস্যদের সচেতন করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ সম্পূর্ণভাবে চলে নির্দিষ্ট রুলস অফ প্রসিডিউর ও দেশের পবিত্র সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে। এখানে নির্বাচিত ৩৫০ জন সংসদ সদস্যই সমান পারদর্শী এবং সাধারণ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সবারই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ও দাবি তোলার সমান অধিকার আছে। তবে মনে রাখতে হবে, দেশের সমস্যা অন্তহীন হলেও সংসদ কিন্তু চলে নির্দিষ্ট আইন-কানুনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে।’

বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অফ অর্ডার তোলার সঠিক সময় ও নিয়ম মনে করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার রেইজ (উত্থাপন) করার নির্দিষ্ট সময় হলো প্রতিদিনের নির্ধারিত প্রশ্নকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই। তা ছাড়া চলমান বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অফ অর্ডার গ্রহণ করা হয় না। কারণ এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অর্থসংক্রান্ত অধিবেশন এবং এখানে আগে থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে মূল বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখার শিডিউল থাকে। ফলে যেকোনো সংসদ সদস্যের যখন ইচ্ছা তখনই হুট করে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে দেওয়া সংসদীয় ইতিহাসে এমন রেওয়াজ চলে না।’

আজকের অধিবেশনে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের তোলা একটি ভিন্নধর্মী প্রসঙ্গের জবাবে স্পিকার সহাস্যে বলেন, ‘উনি (মুজিবুর রহমান) সংসদে খেয়াল করেছেন যে আমি কোনো এক প্রসঙ্গে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি, যা উনার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে সংসদীয় রীতির পরিপন্থি মনে হয়েছে। এই ছোট বিষয়টি নিয়েও তিনি আজ পয়েন্ট অফ অর্ডার তুলেছেন।’

অন্যদিকে, রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের উত্থাপিত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রশংসা করলেও নিয়মের বিষয়ে অনড় থাকেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘নুরুল আমীন সাহেব, আমি আপনার সংসদীয় সেন্টিমেন্টের আন্তরিক প্রশংসা করি। আপনি একজন আদর্শ শিক্ষক এবং দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়া দেশের ভুক্তভোগী পৌর কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম আছে। সংসদকে এভাবে হুটহাট মুখোমুখি চালানো যায় না। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে হলে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আগে নোটিশ দিতে হয়। আপনি যদি নিয়ম মেনে নোটিশ দিতেন, তবে আমরা হয়ত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দিতে পারতাম। সুতরাং, ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করে কথা বলার জন্য আপনাদের সবার কাছে সবিনয় নিবেদন রইলো।’

স্পিকার তাঁর রুলিংয়ের শেষ অংশে সদস্যদের উদ্দেশ্যে আরও মনে করিয়ে দেন যে, পয়েন্ট অফ অর্ডার কেবল সংসদে ওই মুহূর্তে চলমান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই হওয়া উচিত এবং সংসদের পবিত্রতা ও উচ্চমানের সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রাখা প্রতিটি নির্বাচিত প্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব।

Link copied!