শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

মাগুরা জেলা জামায়াতের আমিরকে অব্যাহতি, ৩ মাসের জন্য রুকনিয়াত মুলতবি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

1700

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাগুরা জেলা শাখার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড় ধরনের সাংগঠনিক রদবদল ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলটির মাগুরা জেলা আমির এবং আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ (মহম্মদপুর-শালিখা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকেরকে দ্বিতীয়বারের মতো জেলা আমিরের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁর প্রাথমিক রুকনিয়াত (সদস্যপদ) আগামী তিন মাসের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মাগুরা জেলা জামায়াতের দোয়ারপাড়স্থ প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা শুরা ও কর্মপরিষদের এক বিশেষ জরুরি সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুবারক হোসেন।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রীপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. আলমগীর বিশ্বাস এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল মতিন।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক এম বি বাকেরকে জেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়ার পর জেলার সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। সভায় সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ বাচ্চুকে মাগুরা জেলার ‘ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির’ এবং সহকারী অধ্যাপক মশিয়ার রহমানকে ‘ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি’ হিসেবে নতুন সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এটি অধ্যাপক এম বি বাকেরের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বারের মতো অপসারণের ঘটনা। এর আগে গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের আইনি জামিনের তদবিরে দলীয় প্যাডে প্রত্যয়নপত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তখন তীব্র ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রের নির্দেশে তাকে জেলা আমিরের পদ থেকে এক দফায় অপসারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় বিবেচনার ভিত্তিতে তাকে পুনরায় জেলা আমিরের পদে পুনর্বহাল করা হয়।

তবে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা আমির পদে পুনর্বহাল হওয়ার পর এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনের অভ্যন্তরে মারাত্মক বৈষম্যমূলক আচরণ, দলীয় কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বৈরাচারী মনোভাব, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা ও ফান্ডের অর্থ তসরুফসহ সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগপত্র ও তথ্যপ্রমাণ জমা দেন।

লিখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রধানতম বিষয়গুলো হলো:

১. গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পকেট সংগঠন পরিচালনা করা।

২. নির্বাচনি তহবিলের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করা।

৩. স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সালিশ-বিচার ও চাকরি বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ততা এবং দলের জমি ক্রয়-বিক্রয়ে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম করা।

৪. স্থানীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে জামায়াতের কঠোর গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিপছন্দ ও আত্মীয়করণকে প্রাধান্য দেয়া।

৫. ইসলামের আদর্শিক নীতি পরিপন্থী ‘সঞ্চয়পত্রে অর্থ বিনিয়োগ’সহ বিভিন্ন সুদভিত্তিক আর্থিক কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ততা।

৬. মতবিরোধ বা সত্য কথা বলার কারণে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের দায়িত্ব থেকে জোরপূর্বক অপসারণ করা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানার জন্য অধ্যাপক এম বি বাকেরের মুঠোফোনে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষেপে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, "কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে জেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং আমার রুকনিয়াত (সদস্যপদ) তিন মাসের জন্য মূলতবি করা হয়েছে।"

জামায়াতের কেন্দ্রীয় যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল সূত্র জানিয়েছে, এম বি বাকেরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল আর্থিক ও আদর্শিক অনিয়মের বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে গভীর অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার বা পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় সেল।

Link copied!