প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
1687
১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
“বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গালভরা কথা বলা হলেও বাস্তবে পর্দার আড়ালে সেই নির্বাচনকে সুক্ষ্মভাবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ ও সাধারণ ভোটারদের পবিত্র আমানতের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হয়েছে,” বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক তথ্য ও মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে চট্টগ্রামের সাথে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, “এই বীর চট্টলার মাটিতে আল্লামা সাঈদীর বহু ঐতিহাসিক তাফসিরুল কুরআন মাহফিল ও কালজয়ী বক্তব্য রয়েছে। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে একটি কথা বলেছিলেন, যা আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্য। বর্তমান পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সচিবালয়—সব জায়গায় আমলাতান্ত্রিক ‘হুতুমপেঁচা’ বসে আছে। তারা সেখানে বসে দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানা ধরনের জনবিরোধী অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।”
সীমান্তে একের পর এক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের সীমান্তে যেকোনো দেশের দ্বারা কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিন্দুমাত্র সমর্থন করি না। যেদিন সীমান্তে নির্বিচারে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে ভিনদেশি বাহিনী দ্বারা অবৈধভাবে গুলি করে হত্যা করা হবে না, ঠিক সেদিনই কেবল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রকৃত অর্থে পারস্পরিক ন্যায্য, সমমর্যাদার ও স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।”
দলের ভাবমূর্তি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা জোর দিয়ে দাবি করেন, তাঁদের নতুন দল কোনো ধরনের পুরোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা দুর্নীতির সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত নয়। তারা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের তরুণদের সাথে নিয়ে ধৈর্য ধারণ করে রাজনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের সদ্য ঘোষিত প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের কঠোর সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “চলতি অর্থবছরের জন্য যে বাজেট পেশ করা হয়েছে, এটি কোনো স্বাধীন দেশের জনবান্ধব বাজেট নয়; বরং এটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় লোকজনের পকেট ভারী করার জন্য তৈরি করা একটি একপেশে ‘গেজেট’। এই গণবিরোধী বাজেটের মাধ্যমে প্রকারান্তরে দেশে কালোটাকা ও চাঁদাবাজিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে আরও বলেন, “এই বিশাল শুভঙ্করের ফাঁকির বাজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম কিংবা মুগ্ধের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কোনো প্রতিফলন বা তাঁদের পরিবারের জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় দিকনির্দেশনা নেই। এ কারণে দেশের ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে আমি এই প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতি তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা জানাচ্ছি।”
১১ দলীয় ঐক্যের এই মহাসমাবেশে চট্টগ্রামের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় অন্যান্য জোট নেতারাও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে একটি সত্যিকারের কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান।