প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:২০ পিএম
1696
১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর দেওয়া একটি কূটনৈতিক মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র আপত্তি ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এই স্পর্শকাতর বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ কী, তা ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে জনসমক্ষে স্পষ্ট করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে জামায়াত আমির তাঁর ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতীয় হাইকমিশনারের ওই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, "গতকাল (১২ জুন) বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেখানে তিনি একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। একজন বিদেশি কূটনীতিকের মুখ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্ব নিয়ে এমন বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কী, তা অনতিবিলম্বে স্পষ্ট করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া উচিত।"
তিনি ভারতের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের তাগিদ দিয়ে আরও বলেন, "ভারত যেমন দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, ঠিক তেমনিভাবে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশও একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বকীয় ও সার্বভৌম দেশ। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে দুই দেশের সার্বভৌমত্বের সীমা সুনির্দিষ্ট। এ কারণে এমন একটি স্পর্শকাতর বক্তব্য যদি খোলাসা বা স্পষ্ট করা না হয়, তবে বাংলাদেশের সাধারণ জনমনে গভীর বিভ্রান্তি ও চরম ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।"
বিষয়টি নিয়ে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যদি ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বক্তব্য আক্ষরিক অর্থে বা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের ভৌগোলিক কিংবা রাজনৈতিক একীভূতকরণের ইঙ্গিত বা আভাস দেয়, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, আপত্তিকর এবং স্বাধীন দেশের নাগরিকদের জন্য চরম উদ্বেগের। তাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থেই বিষয়টি ভারতের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিষ্কার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
জামায়াত আমির দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই বিষয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিক কৈফিয়ত বা ব্যাখ্যা তলব করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।