রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ এএম

ইসলামী ব্যাংক ধ্বংস হলে পুরো আর্থিক খাত ঝুঁকিতে পড়বে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

1707

দেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান তীব্র সংকট ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স আহরণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’ যদি সংকটে পড়ে বা স্থবির হয়ে যায়, তবে এর প্রভাবে পুরো দেশীয় আর্থিক খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

শনিবার (২৩ মে) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তিনি ব্যাংক ব্যবস্থার বর্তমান তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।

বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, "দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো ব্যাংকিং খাত। কিন্তু বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চরম তারল্য সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার এই সংকট নিরসন না করে উল্টো কয়েকটি ব্যাংকে পছন্দসই লোক বসিয়ে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ বিনষ্ট করছে।"

ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই সফল ব্যাংকটিকে স্থবির করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। ব্যাংকের বৈধ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জোরপূর্বক পদচ্যুত করার ঘটনা ঘটেছে, যা একটি বেসরকারি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপের শামিল। এর ফলে ব্যাংকের ৩ কোটি আমানতকারী এবং প্রায় ৮০ লাখ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ রেমিট্যান্স আহরণকারী এই ব্যাংক সংকটে পড়লে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দলীয় অনুকম্পাপ্রাপ্ত ও ঋণ পুনঃতফসিলকারী একজন মধ্যমসারির ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেছে। আর্থিক খাতে সুশাসন ফেরাতে অবিলম্বে এই দলীয় গভর্নরকে অপসারণ করতে হবে। একই সাথে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একজন পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের সমন্বয়ে নতুন বোর্ড গঠন এবং অপসারিত এমডিকে স্বপদে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়। এর পাশাপাশি ব্যাংক লুটেরাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার যদি এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে না আসে এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে এর ফলে সৃষ্ট আর্থিক অস্থিতিশীলতার সমস্ত দায় বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।

Link copied!