রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ১২:৪০ এএম

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ আজ, প্রস্তুত লালদিঘীর ময়দান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২৪ এএম

1695

ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দান পরিদর্শনে ১১ দলের নেতাকর্মীরা

জাতীয় গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, তীব্র জনদুর্ভোগ নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আজ বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিশাল বিভাগীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে রাজপথের ‘১১ দলীয় ঐক্য’।

আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে এই মেগা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশকে ঘিরে ঐতিহাসিক এই ময়দানে ইতোমধ্যে ব্যাপক ও জাঁকজমকপূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে আয়োজিত এই বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেবেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

জোটের আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশটি অত্যন্ত রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা (যেমন—কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী) ও উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ দুপুরের পর থেকেই এ সমাবেশে অংশ নিতে দলে দলে লালদিঘীর মাঠে জড়ো হতে শুরু করবেন। সমাবেশকে পুরোপুরি সফল ও একটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত করতে গত এক সপ্তাহ ধরে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশ ঘিরে লালদিঘী মাঠের এক পাশে একটি বিশালাকার ও সুদৃশ্য তোরণসহ আধুনিক ডিজিটাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। তীব্র গরম ও বৃষ্টি মাথায় রেখে সমাবেশস্থল ঘিরে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা বজায় রাখতে জোটের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে বিশেষ শৃঙ্খলা বাহিনী গঠন করা হয়েছে। সবশেষ গতকাল শুক্রবার বিকেলে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা মঞ্চ নির্মাণ, আগত সাধারণ মানুষের অবস্থান, মাইক ও লাউডস্পিকারের সংযোগ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ের খোঁজখবর নেন।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বলেন, “বিভাগীয় সমাবেশকে সফল করতে আমাদের কর্মীরা দিনরাত কাজ করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা জেলাভিত্তিক সমন্বিত সেল গঠন করেছি। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফল সমাবেশ উপহার দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”

জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও সমাবেশের সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান এক বিবৃতিতে বলেন, “চট্টগ্রামের এই বিভাগীয় সমাবেশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা বা স্বার্থের জন্য নয়; বরং এটি দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন, ইনসাফভিত্তিক সমাজ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি উন্মুক্ত গণমঞ্চ। আমরা আশা করি, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আজকের এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে পরিণত করবেন।”

Link copied!