প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
1694
১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশজুড়ে হামের (মিজেলস) অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা রোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তনের কারণে মাঠপর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি কিংবা দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। এদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে সশরীরে উপস্থিত না থাকায় তাঁর লিখিত উত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল তাঁর প্রশ্নে দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কাজনক ঘটনা উল্লেখ করে এর সুনির্দিষ্ট দায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ, এর বিস্তার এবং চলমান টিকাদান কার্যক্রমের ওপর সরকারের বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও কারিগরি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সরকারপ্রধান অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, ‘টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ফলে সামগ্রিক টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও গভীর কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এই জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় যদি কারও বিন্দুমাত্র অবহেলা বা উদাসীনতা প্রমাণিত হয়, তবে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় সব ধরনের জীবনরক্ষাকারী টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তৃণমূল পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম শতভাগ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ডব্লিউএইচও গাইডলাইন) এবং প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করেই সম্পাদিত হয়ে থাকে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও হামের প্রাদুর্ভাব রোধকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার ও গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু সমন্বিত ও জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন
* দেশব্যাপী জীবনরক্ষাকারী টিকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কোল্ড চেইন মজুত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
* দেশের প্রতিটি প্রান্তে রোগ নজরদারি (ডিজিজ সার্ভিল্যান্স) কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
* যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ এবং জরুরি মেডিকেল রেসপন্স ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে।
* টিকাদানের গুরুত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য অংশীজনদের (যেমন ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে আরও জানান, দেশে হামের টিকাদানের আওতা শতভাগে উন্নীত করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর শিশুদের সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ও বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম বর্তমানে সারাদেশে একযোগে অত্যন্ত সফলভাবে চলমান রয়েছে।