প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
1697
১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ এএম
রাষ্ট্রীয় ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতার অনন্য প্রতীক হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।
আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন৷
উদ্বোধনী সমাবেশে ঢাকার জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম প্রধান দূরদর্শী ও মানবিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো— ব্যক্তি নয়, পরিবারই হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি ও একক। সরকারের এই মহৎ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই দেশব্যাপী এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সমাজের প্রকৃত দরিদ্র, অসহায়, খেটে খাওয়া ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর (সোশ্যাল সেফটি নেট) আওতায় আনা হচ্ছে।’
মিজ ফরিদা খানম আরও বলেন, ‘আজকের এই তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমে কেরানীগঞ্জ উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২টি ইউনিয়নের মোট ১,২৭৫টি যোগ্য ও অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল একটি সাধারণ প্লাস্টিক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম নয়; বরং এটি প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, মানবিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়নের এক নতুন জয়যাত্রা।’
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে সরকারের বিশাল কর্মযজ্ঞের তথ্য তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারের ২৩টি ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ছোট-বড় প্রায় ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই নতুন ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা মূলত পূর্বেকার সব বিচ্ছিন্ন সেবা ও ভাতাসমূহকে একটি একক ও সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মূল শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে। এর সুদূরপ্রসারী ফলেই দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর কেবল করুণা বা অনুদানভিত্তিক দাতব্য ব্যবস্থা হিসেবে থাকবে না; বরং তা রাষ্ট্রের প্রতিটি পিছিয়ে পড়া নাগরিকের আইনগত ন্যায্য অধিকার হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশে এই ফ্যামিলি কার্ডটি একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্র বা ‘ইউনিভার্সাল সোশ্যাল আইডি’ (USI) হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ নেবে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের একজন নাগরিক রাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন সামাজিক সেবা, জরুরি রেশন, চিকিৎসা সুবিধা ও অন্যান্য সরকারি আর্থিক অনুদান কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের হয়রানি ছাড়াই সরাসরি অত্যন্ত সহজে গ্রহণ করতে পারবেন।’
উপস্থিত কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের উদ্দেশ্যে ঢাকার জেলা প্রশাসক আবেগী কণ্ঠে বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এই ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি অসচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার মূল প্রতীক হয়ে উঠবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উপহার আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করুক। এই কার্ডের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আপনারা যেন খাদ্য নিরাপত্তা, সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের সুবিধা আরও সহজে ও ঘরে বসে গ্রহণ করতে পারেন সেই শুভ প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। যেকোনো যৌক্তিক প্রয়োজনে ঢাকার জেলা প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে ছায়ার মতো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
কেরানীগঞ্জ রুহিতপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রুহিতপুর ও সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কার্ড নিতে আসা শত শত সাধারণ মানুষ ও নারীরা উপস্থিত ছিলেন।