প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
1697
১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৮ এএম
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হলরুমে ‘সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ও কাঁটাতারের রাজনীতি’ শীর্ষক ব্যানারের সামনে বসে সংবাদ সম্মেলন
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় নয়া দিল্লির একতরফা ও অমানবিক ‘পুশ-ইন’ (জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়া) বন্ধে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ বা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেই বলে তীব্র ক্ষোভ ও মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তজুড়ে অবৈধ পুশ-ইনের মাধ্যমে প্রতিবেশী ভারত সরকার ন্যূনতম কূটনৈতিক সৌজন্য, সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইন এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।
আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ও কাঁটাতারের রাজনীতি’ শীর্ষক এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কড়া সমালোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশের সভ্য রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা সীমান্তরক্ষীরা তাদের নিজস্ব দেশের অভিবাসী বা সংখ্যালঘু নাগরিককে অন্য দেশের মানুষ বলে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্য রেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে অবরুদ্ধ করে বসিয়ে রাখতে পারে না। এভাবে নির্যাতন চালিয়ে মারণাস্ত্র উঁচিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে জোর করে ঢুকানোর মতো অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ পৃথিবীর আধুনিক ইতিহাসে বিরল। এর আগে আমরা দেখেছি, মিয়ানমারের বর্বর জান্তা সরকার তাদের নিজেদের নাগরিকদের ওপর নৃশংস ও পদ্ধতিগত গণহত্যা চালিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রায় কয়েক যুগ হতে চলল বাংলাদেশে আশ্রিত বিশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার হৃদয় বিদারক ও মানবেতর জীবন চেয়ে চেয়ে দেখছে বিশ্ববাসী, অথচ তাদের নিরাপদ পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ আজও আলোর মুখ দেখেনি।’
তিনি ভারতের বর্তমান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ভারত সরকার অতীতে বলেছিল বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার এলে তারা আমাদের সাথে সব ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতা করবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, তাদের সহযোগিতার এই নৃশংস নমুনা ও দাদাগিরি অতীতের মতোই আমাদের নিয়মিত দেখতে হচ্ছে।’ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ভারতের এই একমুখী কাঁটাতারের রাজনীতি, অকারণ সীমান্ত হত্যা এবং অবৈধ পুশ-ইনের মতো চরম শত্রুসূলভ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যদি ভারত একটি সুস্থ, দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তবে তাদের সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের এই হীন নীতি অবিলম্বে চিরতরে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশীসুলভ শান্তিময় সম্পর্ক চায়, তবে তা কখনোই একতরফা হবে না; তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।’
ব্যারিস্টার ফুয়াদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত হাজার হাজার নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকের বর্বরোচিত হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক নিয়মে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। একই সঙ্গে দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সর্বাধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত ও আধুনিকায়ন করতে হবে। সীমান্তবর্তী অরক্ষিত জনগণের জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সামরিক ও নাগরিক প্রতিরক্ষা (সিভিল ডিফেন্স) প্রশিক্ষণের দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে।
আওয়ামী লীগের বিগত শাসন আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী আমলের সেই নতজানু ও দাসত্বসুলভ পররাষ্ট্রনীতি ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া যায় না। দেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে দেশের সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে সর্বদলীয় জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে।’
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আরও দাবি জানান, ‘বিগত ৫৬ বছরে সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে অবিলম্বে প্রস্তুত করে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করতে হবে। একই সাথে জাতিসংঘ (UN), আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সশরীরে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা করে বিএসএফের অবৈধ ও অমানবিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করতে হবে।’
উক্ত চাঞ্চল্যকর সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু এবং মশিউর রহমান মিলুসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।