প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
1690
১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ এএম
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক তুখোড় মুখপাত্র ও সংগঠক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর (পুনরুত্থাপন) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আরও এক দফা পিছিয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সময়মতো জমা দিতে না পারায় আগামী ২৮ জুন নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এই নিয়ে আলোচিত এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য দীর্ঘ ১৬বারের মতো সময় পেল মামলার নতুন তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বনির্ধারিত দিন ধার্য ছিল। তবে সিআইডির সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এদিন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। পরে বিজ্ঞ বিচারক ডায়েরি পর্যালোচনা করে আগামী ২৮ জুন প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী নতুন তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদি দেশজুড়ে আলোচিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ অন্যতম প্রধান আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ (রমনা-পল্টন) আসন থেকে একজন শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিন অর্থাৎ গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে ওত পেতে থেকে গুলি ছোঁড়ে। গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
পল্টনে এই বর্বরোচিত গুলির ঘটনার পর দিন ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদি মারা গেলে আইনি প্রক্রিয়ায় মামলাটি একটি নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের গত ৬ জানুয়ারি আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তবে মামলার মূল মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করার অভিযোগ তুলে বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের ডিবির দেওয়া ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে একটি আনুষ্ঠানিক ‘নারাজি’ (অসন্তোষ) আবেদন দাখিল করেন। বাদীর নারাজি আবেদনের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ডিবির চার্জশিট নাকচ করে মামলাটি অধিকতর ও নিখুঁত তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি, তবে দফায় দফায় সময় নিলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করতে পারেনি সংস্থাটি।