প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
1697
১৮ জুন ২০২৬, ০১:৩১ এএম
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশির (৫৩) নামে এক সন্মানিত কলেজ শিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সাহাগোলা রেলস্টেশনের ডাউন লাইনের পাশ থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নেয়ামুল বাশির আত্রাই উপজেলার বড় শিমলা মহিলা কলেজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রভাষক পদে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। তিনি নওগাঁ পৌর শহরের চকরামচন্দ্র এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। শিক্ষকের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে নিহতের স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা তাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে গেছে।
নিহতের ছোট ভাই মিজানুর রহমান কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমার মোবাইলে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। এশার নামাজের পর তাঁর নিজ বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। তিনি আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে নওগাঁ শহরে নিজের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। আমাদের ধারণা, পথিমধ্যে নির্জন স্থানে ওত পেতে থাকা খুনিরা ও গাড়িতে থাকা দুর্বৃত্তরা ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ এই সাহাগোলা স্টেশনের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। কোনো পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই খুনিরা আমার নিরীহ ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চাই।’
লাশ উদ্ধারের বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, আত্রাই থানা পুলিশের মাধ্যমে আজ সকালে প্রথম খবর পাওয়া যায় যে সাহাগোলা রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইনের পাশে একটি অজ্ঞাত পরিচয় পুরুষের লাশ পড়ে রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই জিআরপি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, নিহতের মাথার পেছনে ও কপালে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের গভীর চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত খুনিদের দ্রুততম সময়ে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে রেলওয়ে পুলিশ ও জেলা ডিবি পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।