প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
1688
১৮ জুন ২০২৬, ০১:৩১ এএম
যশোরের অভয়নগরে রিয়াজ হোসেন (২৯) নামের এক যুবককে গভীর রাতে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের ধলিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রিয়াজ হোসেন প্রেমবাগ ইউনিয়নের ধলিরগাতী গ্রামের বাসিন্দা মনসুর আলীর ছেলে। অভয়নগর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, নিহত যুবকের বিরুদ্ধে এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক কারবারসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়াজ হোসেন এলাকায় সন্ত্রাসী প্রকৃতির যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কে বা কারা ধলিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্ধকার মাঠে রিয়াজকে একা পেয়ে লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সবুজ জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রিয়াজ হোসেন নামের ওই যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা করে তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মূলত শরীরের মূল রক্তনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আজ বুধবার সকালে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় রিয়াজ হোসেন নামের একাধিক মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় থানায় তল্লাশি করে তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক আইনের ৬টি মামলার রেকর্ড পাওয়া গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করতে এবং আইনের আওতায় এনে আটকে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’